ইসকনের হাত ধরে

ইসকনের হাত ধরে “আফ্রিকার কোজো মারফো” গরু কাটা কসাই থেকে আজ মহান চিত্রশিল্পী।

ইসকনের হাত ধরে “আফ্রিকার কোজো মারফো” গরু কাটা কসাই থেকে আজ মহান চিত্রশিল্পী। কোজো মারফো….. আফ্রিকার (ঘানা) একজন কসাই ছিলেন যিনি কয়েক বছর আগে দিনে 8-10টি গরু হত্যা করতেন বিক্রির জন্য।

কিন্তু আজ তিনি গরুর পূজা করে এবং বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং ব্যস্ততম চিত্রশিল্পী। তার চিত্রকর্মের মূল বিষয় হল গরু। একটি গরুর চোখ তার হৃদয়কে এমনভাবে পরিবর্তন করেছিল। একদিন যখন তিনি একটি গরু বিক্রির জন্য হত্যা করে কাঁটছিলেন, তখন তার মরা চোখ তাকে নাড়া দিয়েছিল।

সেই দিনের পর থেকে তিনি গরুর মাংস বিক্রিয় এবং গরু হত্যা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবে নিবৃত্তি করেন। তিনি এখন গো হত্যা থেকে নিজেকে সরিয়ে একজন সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী হয়েছেন, যাহা ব্যবহারিকভাবে একজন আফ্রিকান মানুষের পক্ষে খুবেই  অসম্ভব কাজ।

পাশাপাশি তিনি আফ্রিকাতে গো হত্যা বন্ধের জন্য প্রচার করছেন। তিনি বলেন যে “গরু শুধুমাত্র একটি প্রাণী নয়, এটি সমগ্র মানব সভ্যতার বাহন। ভারতে, গরুকে হিন্দুরা মা এবং দেবতা হিসাবে পূজা করে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত, বৈজ্ঞানিক, প্রাকৃতিক, পরিমার্জিত, কোমল এবং সহনশীল সংস্কৃতি।  

এটা একমাত্র ভারতীয় সংস্কৃতির মধ্যেই সম্ভব। তাই বিশ্বকে সভ্য হতে ভারতের দিকে তাকাতে হবে।আফ্রিকাতেও মানুষ গরুকে অনেক সম্মান দেয় কারণ এটি এখনও কৃষি কাজে লাগে। অন্যদিকে একজন যুবকের কাছে যদি 3-4টা গরু থাকে, তাহলে সে সহজেই বিয়ের জন্য একজন সুন্দরী মেয়ে খুঁজে পাবেন।

কোজো এখন সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়াচ্ছে যেখানে তাকে কসাই থেকে চিত্রশিল্পীতে রূপান্তর সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় এবং তিনি উত্তর দেন “আমি কিছুই জানি না ঈশ্বর জানেন। আমি আমার জীবনে কখনও রঙ স্পর্শ করিনি।” আমার হাত সবসময় রক্তে রঞ্জিত থাকত। কখনোই রং তুলি দেয়ে ছবি আঁকিনি। কোজো যে চিত্রগুলি আঁকেন তাতে গরু, একক নারী, পুরুষ, পাখি এবং কুকুর প্রধান বিষয়।

তিনি তাদের কঙ্কাল এবং শারীরস্থান চিত্রিত করে কারণ তিনি কসাই হিসাবে কাজ করার মাধ্যমে শারীরস্থান আরও ভাল বোঝে।  তিনি গরুর ছবি আঁকতে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান এবং তার সমস্ত চিত্রগুলি হাজার হাজার বছর আগে ভারত ও আফ্রিকার গুহাগুলিতে মানুষের পূর্বপুরুষদের দ্বারা তৈরি করা চিত্রগুলির মতো।

আর পড়ুন….

 

 

কোজো বলেছেন যে তিনি আজ পর্যন্ত সেই গুহা চিত্রগুলি দেখেননি, তবে যখন সেগুলি তিনি আঁকেন তখন ছবি গুলো সেই হাজার বছর আগের গুহাগুলিতে আঁকা মানুষের চিত্রগুলো মতন হয়, তিনি আর বলেন জানিনা কেন এমন হয় উত্তরটা  একমাত্র  ঈশ্বরই  দিতে পারেন। কোজো গোটা বিশ্বের কাছে আবেদন করেছে যে মানুষ যেন গরুর মাংস খাওয়া, হত্যা, হয়রানি বন্ধ করে দেয়।

এই পৃথিবীতে মানুষের পরম বন্ধু গরু, সেই আদি কাল হতে আজ অবধি গরু মানুষকে তার এই নিপুন সভ্যতা তৈরি জন্য অবদান রেখে চলেছে। 

কোজোর পেইন্টিংগুলি বর্তমানে নিউইয়র্ক এবং লন্ডনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আর্ট গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে। একটা সময় যিনি একজন কসাই হিসাবে কাজ করতেন।

তার দৃষ্টিতে গরু, নারী ও এই পৃথিবী এক। এই সৃষ্টি জন্য তারাই সবচেয়ে বেশি অবদান রেখে চলেছেন।কিন্তু এই সভ্যতা তাদেকে দিনের পর দিন বিভিন্ন ভাবে পিড়া দিয়ে চলেছে। তাই আমাদের সকলে উচিৎ এই অসম্মান জনক পিড়া থেকে তাদের রক্ষা করা। তারা বাঁচলে সভ্যতা বাাঁচবে।

 

আমাদের পাশে থাকতে একটি লাইক দিয়ে রাখুন।-ধন্যবাদ