চীন ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক যুদ্ধের ফলাফল কি হতে পারে?-অপু ঢ়ালি

চীন ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক যুদ্ধের ফলাফল কি হতে পারে? আমরা যদি অল্প সময়ের মধ্যে ভারত, চীন এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতির অবস্থা সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে চাই, তবে প্রথমে এই কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করুন। চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি গত 25 বছরে প্রথমবারের মতো সাত শতাংশ থেকে পিছিয়ে এসে ২০১৫ সালে ৬.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল যা এখনো ধারা বাহিক। 

 

বিশ্ব অর্থনৈতিক সংস্থা মরগান স্ট্যানলি আশঙ্কা করছেন যে ২০০৮ সালের মতো বিশ্ব অর্থনীতি আবারও মন্দার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। সংশয়বাদের পক্ষে, সংস্থাটিও যুক্তি দেয় যে প্রতি ৮ থেকে ১২ বছরে একবার মন্দার চক্র ফিরে আসে, চীনের অবস্থা খারাপ, বিশ্বব্যাপী পণ্য ও পণ্যাদির দাম স্থিতিশীল বা হ্রাস, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেড রিজার্ভ সুদ হার বাড়ানোর শর্তে নয়।

চীন ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও )ও তার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলেছে যে ২০১৮ সালে খাদ্যশস্যের দাম ১৯% কমেছে। খরচ কমিয়ে প্রত্যাশার চেয়ে মূল্যস্ফীতি হ্রাস করা কোনও অর্থনীতির পক্ষে ভাল লক্ষণ নয়। এটি মরগান স্ট্যানলির সন্দেহকে আরও শক্তিশালী করে। আমরা যদি চীনের দিকে লক্ষ্য করি তবে গত এক বছরে এর অর্থনীতির বুদবুদটি বিস্ফোরিত হয়েছে, যার কারণে বারবার এটির মুদ্রার ইউয়ানকে অবমূল্যায়ন করতে হয়েছিল। তবুও, এর রফতানি ফিরছে না। চীন অর্থনৈতিক ফ্রন্টে একটি বিশাল আলস্য চাহিদা অনুভব করে আসছে।

 

বিশ্লেষকরা যারা বিশ্বাস করেন যে চীনের অর্থনীতি একটি গভীর সংকটে রয়েছে, তারা বলে যে সরকারী পরিসংখ্যান কিছুই বলে না, চীনের অর্থনীতির আসল প্রবৃদ্ধি চার-পাঁচ শতাংশের বেশি নয়। দ্বিতীয়ত, চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা উদার গণতান্ত্রিক নয়, সেখানে কমিউনিস্ট পার্টির একচেটিয়া ব্যবস্থা রয়েছে, যা অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে গ্রহণ করার পরিবর্তে এখনও অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। চীনে যখন শেয়ার বাজারের পতন শুরু হয়েছিল, সরকার শেয়ার বাজারে বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে এবং নিজেরাই বিপুল পরিমাণ অর্থ ছুঁড়ে দিয়ে তা বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল, শেষ পর্যন্ত এই প্রচেষ্টাগুলি ত্যাগ করতে হয়েছিল।

দুটি অর্থনীতির মধ্যে প্রধান পার্থক্য:

ভারতের অর্থনীতিটির মূল্য ৫ ট্রিলিয়ন ডলার এবং চীনকে ১১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বলে মনে করা হয়। চীন ৫০ শতাংশেরও বেশি উত্পাদন রফতানি করে, যখন ভারতের বাজার দেশীয় (গার্হস্থ্য)। চীনের পণ্য বিদেশী চাহিদার উপর নির্ভরশীল, অপর দিকে বেশিরভাগ ভারতীয় পণ্য দেশে চাহিদার উপর নির্ভরশীল।

 

অর্থনৈতিক যুদ্ধ-সোজাসাপ্টা

এই কমিউনিস্ট দেশটি বর্তমানে কঠিন অর্থনৈতিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে চলছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে চীন এবং ভারতের সম্পর্কের প্রভূত অবনতি দেখা গিয়েছে। ভারত-চীনের ৫৯টি অ্যাপ ব্যান করেছে এবং চিনা পণ্যের ওপরে বাড়িয়েছে শুল্ক। এই অবস্থায় আকাট গর্দভোক্তি না করে দেখা যাক তথ্য ও পরিসংখ্যান কি বলছে :- 

Economic War-এ ভারত বা চীনের কতটা ক্ষতি বা লাভ হতে পারে?

ভারতের net import এর প্রায় 18 থেকে 20 শতাংশ চীন থেকে আসে। ভারত প্রতিবছর প্রায় $500 বিলিয়ান বা 37.4 লক্ষ কোটি টাকার মূল্যের জিনিস import করে (2018) যার মধ্যে 6 লাখ কোটি হচ্ছে imported from China। ভারত চীনকে কে export করে মাত্র 1.5 লাখ কোটি টাকার সম্পদ। দেখা যাক এতে চীনের কতটা লাভ হয়:- 

 

Nominal GDP অনুযায়ী চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইকোনমি- $14 Trillion (2019)। ভারত তার মাত্র এক পঞ্চমাংশ ($3 Trillion) এবং পঞ্চম বৃহত্তম ইকোনমি। তবে GDP Growth Rate এর দিক থেকে Trillion Dollar Economy দের মধ্যে সবার ওপরে ভারত, যা 2018 তে ছিল প্রায় 6.9 শতাংশ। যেখানে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি USA এর growth rate মাত্র 3 শতাংশ।

ভারতে করা এক্সপোর্ট চীনের জিডিপির প্রায় 0.65%। সংখ্যাটা খুবই ছোট লাগছে না? একটা মজার তথ্য দিই। গোটা বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র 0.11% এখনো অব্দি COVID affected হয়েছে (ভারতে মাত্র 0.037% COVID affected)। এবার সংখ্যাটা কতটা massive হতে পারে বোঝা যাচ্ছে? ভারত Fertiliser Industry তে GDP এর 0.03% এর ও কম ইনভেস্ট করে। 0.65% মানে কতটা, আশা করি বুঝতে পারছেন।

ধরা যাক, চীন-ভারতের ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। তাহলে কি হবে? Mathematically? ভারত প্রতিবছর প্রায় 4.5 লাখ কোটি টাকা বাঁচাবে আর চিন সমপরিমাণ হারাবে। ধরে নিন একজন চিনার Average Income মাসে 50,000 টাকা বা বছরে 6 লাখ টাকা (আসলে যা বছরে 3.2 লাখের বেশি নয়- $4461 per year)।

New War Fronts Lie in Economic Zones chaina and india

তবে বছরে 4.5 লাখ কোটি টাকা মানে অংকের ভাষায় সাড়ে সাত(7.5) কোটি লোকের এক বছরের মাইনে। মানে ভারত চীন ব্যবসা পুরো বন্ধ হলে, প্রায় সাড়ে সাত কোটি চীনা চাকরি হারাবে। ধরে নিলাম এর অর্ধেক বাইরে থেকে চীনে কাজ করতে যাওয়া লোক। তাও সংখ্যাটা সাড়ে তিন কোটির বেশি। 3.5 কোটি লোক চাকরি হারালে ব্যাপারটাকে আর নিতান্ত ছোট মনে হয় না।

 

চীন গোটা বিশ্বে যা রপ্তানি করে, 44% ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী। বাকি সব ফার্নিচার, খেলনা, Steel, Medical Equipments ইত্যাদি। খেলনা বিক্রি করে চীনের প্রায় $63 Billion বা 4.7 লাখ কোটি টাকা আয় হয়। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। সাড়ে চার লক্ষ কোটি টাকা। যা ভারতের Dfence Budget এর থেকেও সত্তর হাজার কোটি টাকা বেশি। সেকি!!! খেলনা বেচে সেনাবাহিনী পোষা যায়!!

ভারত যে পরিমাণ জিনিস চীন থেকে আমদানি, করে তা ভারতের জিডিপি এর প্রায় 3%। এই পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে বেরোনো বন্ধ করতে পারলে, ভারতের কতটা লাভ হবে বোঝা যাচ্ছে কি?

ভারতের কি কি ক্ষতি হতে পারে?

এবার দেখা যাক ভারতের কি কি ক্ষতি হতে পারে। চীনের ক্ষতির পরিমাণটা তো বুঝলাম। কিছু কিছু সেক্টরে ভারত চীনের ওপর “Heavily Dependant” যেমন Pharmaceuticals, Consumer Durables, Telecom- Electronics, Chemical & Agro-chemical ইত্যাদি।

 

প্রথমে আসি Pharmaceuticals এর কথায়। ভারতের Raw Material বা Active Pharmaceutical Ingredients (API) এর 60% চীন থেকে আমদানিকৃত। সেকি!! তাহলে তো চিন না দিলে ভারতবাসী ওষুধের অভাবে মরবে! আজ্ঞে না। ইন্ডিয়া যা ওষুধ তৈরি করে, তার 80 শতাংশ রপ্তানি বা এক্সপোর্ট করে।

অর্থাৎ বাইরের দেশগুলিকে বিক্রী করে। ভারতকে বলা হয় “Pharmacy of the World”। অতএব চীনের এপিআই ভারতে না এলে ভারতবাসী ওষুধ না পেয়ে মরবে না, শুধু কিছু এক্সপোর্ট কমে যাবে। কারণ ভারত নিজের চাহিদার পাঁচ গুণ ওষুধ ম্যানুফ্যাকচার করে।

 

অর্থাৎ মরবে সেই চিনই। কারণ তাদের দেশের 45% Finished Medical Product ভারত কেনে। অর্থাৎ Raw Material থাকলেও বানানো হয় ভারতে আর চীন নিজেও সেটার ওপরই নির্ভর করে। সুতরাং এক্ষেত্রেও ভারতের চেয়ে চীনের ক্ষতি অনেক বেশি। ভারতের কেবল একটু ব্যবসা কমবে বাইরের দেশগুলোর সাথে কিন্তু চীনের প্রাণ সংশয় হবে ওষুধের অভাবে। তবুও যাতে ভারতেই API লাভজনক ভাবে তৈরি করা যায়।

 

তার ব্যবস্থা করতে কেন্দ্রীয় সরকার July,2020 তে Parliament এ কিছু পলিসি আনছে বলে সুদর্শন জৈন (Secretary, Indian Pharmaceutical Alliance) জানিয়েছেন। যাতে API Policy তে আমূল পরিবর্তন ও Massive Drug Plant ও R&D প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা আছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

চীন ও ভারত যুদ্ধ

দু-তিন বছরের মধ্যে ভারত প্রয়োজনীয় সমস্ত এপিআই নিজেই তৈরি করতে পারবে বলেই বলেও তিনি আশাবাদী। অতএব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে ভারতের কোন ক্ষতি নেই, বরঞ্চ এইটি ভারতকে ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবার সুযোগ করে দেবে।

 

Consumer Durables এ প্রচুর কোম্পানি 30 থেকে 70 শতাংশ চীনের মালের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু ব্যতিক্রম হয়ে দেখিয়েছে Havells, যার মালে চিনা দ্রব্যের পরিমাণ 5 শতাংশেরও কম। সুতরাং এই ফিল্ডে নতুন পদ্ধতিতে adapt করে নিতে মোটেই সমস্যা হবে না ভারতের। Havells has already shown us the way out from Chinese Goods।

এবার আসি প্রভূত গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রিক্যাল ইলেকট্রনিক্স ও টেলিকম ইন্ডাস্ট্রির কথায়। ভারতে চালু সবকটি প্রধান ব্র্যান্ডের মোবাইলই মূলত চীনদেশীয়। Xiaomi,Oppo, Vivo ইত্যাদি। সে ক্ষেত্রে চীন-ভারত ব্যবসা বন্ধ হলে Mobile & Connectivity Technology তে আমরা পিছিয়ে পড়বো, সেটা ভাবাই স্বাভাবিক। তবে তার আগে কিছু Data দেখি।

 

2014 সালে ভারতে Mobile Manufacturing Site ছিল মাত্র দুটি। তারপর আসে Make in India কর্মসূচি। 2019 সালে ভারতে Mobile Manufacturing Site 268 টি। 2014-15 তে তৈরি 60 মিলিয়ন ইউনিট মোবাইল পার্টস আজ বেড়ে 225  মিলিয়ন ইউনিট। 1.9 লাখ কোটি টাকার production আজ বেড়ে 4.58 লাখ কোটি (2018-19)। ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম Mobile Manufacturing দেশ, চীনের পরে (Economic Times; 31st Jan,2020)। Motilal Oswal Data Analyst Team প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী 2025 সালের মধ্যে ভারত প্রায় 7.7 লাখ কোটি টাকার Mobile Goods export করবে। 

 

Noida ভারতের Mobile Hub হওয়ার দৌড়ে অনেক এগিয়ে। 2025 সালের মধ্যে গোটা বিশ্বে তৈরি হওয়া মোবাইলের 25 থেকে 30 শতাংশ ভারতে তৈরি হবে (Pankaj Mahindroo, Chairman, Indian Cellular & Electronics Association)। Make in India এর শুরু থেকেই ভারত আর চীনের মধ্যে Trade Deficit এর পরিমাণ কমছে যা গত তিন বছরে $58.5 Billion থেকে $48.5 Billion এ এসে দাঁড়িয়েছে। Graph এর Data থেকেও যা evident। চীন সবথেকে বড় Trade Surplus Nation ও USA সবথেকে বেশি Trade Deficit Nation। 

ভারত Trade Deficit Nation-এর লিস্টে চতুর্থ বৃহত্তম, গতবছরও যা ছিল তৃতীয়। অতএব ভারতের Trade Deficit কমছে এবং হ্যাঁ 2014-15 সাল থেকেই। শত নিন্দা দূরে সরিয়ে Statistics ও তথ্য কিন্তু Make in India-এর গুনগানই গাইছে। অতএব নির্ভয়ে থাকা যায়। মোবাইল সেক্টরেও কোন প্রভাব পড়বে না ভারতের, বরং হবে অনেক লাভ।

এই অবসরে ভারতে অনেক ব্যবসা ডেভেলপ করবে মার্কেট ফাঁকা পেয়ে। কারণ Economics এর Law অনুযায়ী Demand-Supply সর্বদা সামঞ্জস্য রক্ষা করে। আমেরিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি Abraham Lincoln একটি কথা বলেছিলেন,“যদি আমি ইংল্যান্ড থেকে একটি Coat কিনি,

 

তবে কোট আমার হয়, কিন্তু দাম স্বরূপ টাকাটা ইংল্যান্ডের হয়। কিন্তু যদি আমি কোটটা আমেরিকা থেকে কিনি, তবে কোটটি তো আমারই হয় এবং টাকাটা আমেরিকাতেই থাকে।” অতএব দুশ্চিন্তা না করে, নিজের দেশের ভালো কিসে হয় সেটা বোঝার চেষ্টা করুন।

আর সবশেষে আসি App Ban-এর প্রসঙ্গে। এগুলি প্রত্যক্ষ ভাবে ভারতে কিছু ইমপোর্ট করে না বটে, কিন্তু পরোক্ষভাবে ভারতের জন্যই এদের রোজগার। ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলি। যে কোন App-এর রোজগার মূলত Advertisement এবং In-app purchases- এর মধ্যে দিয়ে।

Tiktok-এ যে কোম্পানি গুলি স্পন্সর বা Camscanner-এ যে কোম্পানিগুলি Advertise দেয় তারাই হল এই App গুলির Income Source। এইরকম Advertising কে বলে Digital Marketing। এইখানে টাকা-পয়সার লেনদেন হয় মূলত Cost per Click বা CPC এর ভিত্তিতে। 

 

এই পদ্ধতিতে কোন user ওই advertise টির উপর ক্লিক করলে বা কোন ভিডিও অ্যাড দেখলে প্রতিটি Click বা view (for video ads) এর জন্য সেই কোম্পানিটি ওই app-টিকে pay করে। ভারতে সাধারণতঃ CPC Rate $ 0.2-0.3 এর মধ্যে। এবং Click through rate (number of persons who click on the ad) 0.3-0.5% এর মধ্যে (For Display and Banner ads)। উদাহরণ স্বরূপ ভাবুন Camscanner। এই App-টির 10 কোটির বেশি ডাউনলোড Play Store এ। 

Can An Economic War Transfom

হিসাব-নিকাশ বাদ দিয়ে মূল কথাটা বলি। এই একটি অ্যাপের জন্য, Camscanner এর মালিক প্রতিদিন কমপক্ষে 50 থেকে 60 লক্ষ টাকা কামায়। হ্যাঁ 60 লক্ষ টাকা প্রতিদিন, কমপক্ষে। এই সংখ্যা সর্বাধিক প্রতিদিন 10 কোটি টাকা অবধি হতে পারে। App Ban- এর প্রভাবটা এবার আশা করি স্ফটিক স্বচ্ছ। কেবলমাত্র গালাগাল দিলেই কিছু হয় না। তথ্য যা কথা বলে সেটা সত্যতা নিরূপণের একটা আসল উপায়। 

 

চীনা মাল বয়কট ও চীন ভারত ব্যবসা বন্ধ হলে ভারতের ওপর কোন খারাপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা আদপেই নেই। কিন্তু চীনের অর্থনীতির প্রবল ক্ষতিসাধন করতে পারি আমরা। এখন দায়িত্ব আপনার। আব্রাহাম লিংকনের মহান পদাঙ্ক অনুসরণ করার চেষ্টা করবেন, নাকি টাকা-খোর কিছু দালালদের পথ অনুসরণ করবেন তা সম্পূর্ণ আপনার হাতে। 

২০০৯ সালে চীন সহ বিশ্বের প্রধান দেশগুলি ভয়াবহ মন্দার দ্বারা খুব খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল, তবে ভারতের সরাসরি কোনও প্রভাব পড়েনি। বিপরীতে, রাশিয়া এবং ব্রাজিলের মন্দার সময় ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাংক আগামী তিন বছরের জন্য ভারতের অর্থনীতিকে বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসাবে অনুমান করেছে।

 

চীন ও ভারতের মধ্যে বৃদ্ধির হারের পার্থক্য দেড় শতাংশের বেশি হতে পারে।চীনের অবস্থা দেখে বিদেশি সংস্থাগুলি চীনে থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করতে বা উত্পাদন বন্ধ করতে পারে। তবে এটি অস্বীকারও করা যায় না যে চীনের পতিত জিডিপি এবং ভারতের উত্থিত জিডিপি পশ্চিমা এবং জাপানের মতন  দেশগুলিতে ভারতের প্রতি ভাল মনোভাব গড়ে তুলছে।

যে কোনও দেশ তার ভবিষ্যত উজ্জ্বল দেখাচ্ছে এমন একটি বাজারে বিনিয়োগ করে এর অংশ হতে চান সম্ভবত এই কারণে, উইরোপ জাপান সহ মার্কিন বড় উদ্যোগগুলিও ভারতে বিনিয়োগ করতে চায়।

আমাদের সাথে থাকতে একটি লাইক দিয়ে রাখুন।-ধন্যবাদ।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক- অপু ঢ়ালি।