যে ইতিহাস হয়নি জানা, টিপু সুলতান কি ইতিহাসের নায়ক, না খলনায়ক?

টিপু সুলতান

বর্তমান কর্ণাটক যা পূর্বের  নাম ছিলো  মহীশূর। এই রাজ্যেরী  শাসক ছিলেন ‘শের-ই-মহীশূর’  অর্থাৎ টিপু সুলতান ৷ হায়দার আলী ছিলেন টিপু সুলতান পিতা । যিনি মহীশূর রাজ্যের প্রধান সেনাপতি ছিলেন৷ হায়দার আলী পরবর্তীতে এই মহীশূরের শাসক হন। তিনি শাসন করতেন কাবেরী নদীর ধারে শ্রীরঙ্গপত্তনম গ্রামে ব-দ্বীপে নির্মিত একটি দূর্গ থেকে। হায়দার আলীর মৃত্যু পর তার রাজ্যের শাসক হন টিপু সুলতারন। আমরা যদি টিপু সুলতানের বীরত্ব কথা বলা শুরু করি তবে, রাতের পর রাত কেটে যাবে তবু তা শেষ হবার না। এমনটাই আমরা আমাদের পাঠ্য পুস্তক থেকে শুরু করে সকল টিভি ধারাবাহিকে শুনে বা দেখে এসেছি। টিপু সুলতান ছিলেন ক্ষীপ্রতা, বীর যোদ্ধা,  বুদ্ধিমত্তা, দক্ষ আর কৌশলপূর্ণ শাসক। তাঁর শৌর্যবীর্যের বীরত্ব কারণে ইংরেজরা তার কাছে বার বার পরাজিত হয়েছে। এক ফকিরের দোয়ায় টিপু সুলতানের মা-বাবা তাকে পুত্র সন্তান হিসাবে পান। আর তার জন্যই টি

Picture search by google

পুর বার ঐ ফকিরের নাম অনুসারে টিপু রাখা হয়। ‘‘কানাড়ী ভাষা’’ মহীশূরের স্থানীয় ভাষায়, এই ভাষার ‘টিপু’ শব্দের অর্থ হলো বাঘ। আর হয় তো এই কারণেই তাঁকে ‘শের-ই-মহীশূর’ নামে ডাকা হত। ভারতবর্ষের ইতিহাসে তাকে স্বাধীনতাকামী বীরপুত্র বলা হয়ে থাক।

যে ইতিহাস হয়নি জানা কখনো

কি বন্ধ এটাই তো শুনে এসেছেন? এ পর্যন্ত হয়তো আপনাদের কাছে ঠিক আছে। এর থেকে বেশি বললে হয়তোবা আপনি বলবেন আরে, আরে তুমি কি বলছ। হ্যাঁ বন্ধু, আজ আমি আপনাদের এমন কিছু ইতিহাসের কথা বলব। যে ইতিহাস হয়নি জানা কখনো। এই ইতিহাসের পিছনেও কিছু ইতিহাস থেকে গেছে হয়তো আপনারা বা আমরা সেটা খেয়াল করে নি বা আমাদের খেয়াল করতে দেয়া হয়নি। আজ আমি আপনাদেরকে সেই ইতিহাস কথা বলবো। খুব মন দিয়ে পড়বেন, প্রথমেই আমি আপনাদের একটা প্রশ্ন করি, আপনাদের কখনো কি মনে হয় নাই? যে হায়দার আলী অর্থাৎ টিপু সুলতানের বাবা কিভাবে শাসক হলেন বা রাজ্য পেলেন? এই প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে আছে অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর। হে বন্ধু, আরবদের সেই ৮০০ বছরের রাজত্বের সময় আর ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আমাদেরকে সঠিক ইতিহাস জানানো হয়নি। ইতিহাসের ভিলেন গুলোকেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমাদের কাছে হিরো হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আর যারা হিরো ছিল তাদেরকে আমাদের থেকে বহু দূরে ঠেলে দেয়া হয়েছে। যেমন তৈমুর লং, তিতুমীর এর আজ ইতিহাসে হিরো। কিন্তু রানা প্রতাপ,শিবাজি,রলব সিং এরা ইতিহাসে নাই।

ইতিহাসে শুভঙ্করের ফাঁকি

Picture search by google
Picture search by google

আজ যখন টিপু সুলতানের জীবনী লিখতে বসলাম। তখন আমার কাছে এক ইতিহাসে শুভঙ্করের ফাঁকি ধরা পড়ল। বেশিরভাগ বাংলা ব্লগ বা সাইট গুলোতে টিপু সুলতান সম্পর্কে যা লেখা আছে তা সবই মনগড়া বা নিজের চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। যারা টিপু সুলতানের জীবনী বা টিপু সুলতান সম্পর্কে লিখেছেন তারা বেশিরভাগই ৯০দশকের টিপু সুলতানের জীবনী উপর তৈরি সিরিয়াল থেকে  তথ্য সংগ্রহ করে তার সাথে মনের রং মিশিয়ে একটা টাইগার বা বাঘ টিপু সুলতানের রূপ দেয়ার চেষ্টা করেছেন। বাস্তবিক অর্থে বাংলায় যে সমস্ত ব্লাগ বা সাইটে, টিপু সুলতানের সম্পর্কে লিখা আছে। তা বেশির ভাগই লেখকের মনগড়া বা সেই নব্বই দশকের সিরিয়ালের কাহিনী।

বাস্তবিক অর্থে আমরা যদি দেখি এই লিখাগুলো বেশিরভাগই লিখেছে বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের বংশগত মানুষেরা, যাদের সাথে টিপুর সরাসরি কোন যোগাযোগ ছিলো না কিন্তু ভালোবাসা ছিলো। ফলে ইতিহাসে, টিপু সুলতানের একটা স্বর্ণ খচিত ইতিহাস রচিত হয়েছে বাংলাতে। কিন্তু বাস্তবে আজ যখন ইতিহাস জানার জন্য বিভিন্ন ইংরেজি, হিন্দি ব্লক সাইটে বা বই পড়ালাম। তখন আমার চক্ষু চড়ক গাছের রূপ নিল। একটা উদাহরণ দি, টিপু সুলতান সম্পর্কে বাংলা উইকিপিডিয়া যে তথ্য দিয়েছে তাতে অনেকটা গোজামিল দেয়ার মতন । দয়া করে একটু ঢুকে দেখে আসবেন বাংলা উইকিপিডিয়া টিপু সুলতানের বাবা হায়দার আলীর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেই হায়দার আলী কিভাবে ক্ষামতা পেল তার সম্পকে কিছুই বলা হয়নি। আর হায়দার আলীর  সাথে যে লিংকটা দেয়া আছে। সে লিং কে ঢুকলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন সেই হায়দার আলী নাকি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। কি বিশ্বাস হয় না? তাহলে এই লিংকে ঢুকে হায়দার আলীতে ক্লিক করুণ।

হায়দার আলী কিভাবে শাসক হলেন ?

আজ যখন এদের সঠিক ইতিহাস জানতে পাই। তখন আমরা দেখছি এরা এক একটা ছিল নর নামধারী নরপিচাশ। হ্যাঁ বন্ধু, আমরা এখন সেই মূল প্রশ্নে ফিরে যাব কিভাবে হায়দার আলী অর্থাৎ টিপু সুলতানের বাবা শাসক হলেন?এই প্রশ্ন ধরেই সামনের দিকে আলোচনা এগিয়ে নিতে চাই। টিভি সিরিয়াল থেকে তাহলে বলি- কোন এক রাতে হায়দার ও মহীশূর রাজা এক সাথে বসে মদ পান করছিল। মদ পানের দিকে যদি লক্ষ করি তবে দেখা যায়। হায়দার আলী প্রথমে দু-এক ঢক খেলেও পরে খাওয়ার ভান করে পিছনে ফেলে দিচ্ছিল।তার পর মদ পান করে রাজা যখন মাতাল, কোন তাল নাই। তখন রাজাকে হায়দার আলী হত্যা করে দোতলা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। তার পর কি হলো। যখন রাজাই নাই তবে আর কি করা। প্রধান সেনাপতি সব ক্ষমতা উৎস। তাই হায়দার আলী হলো রাজা। আর তার ধারবাহিকতাই এলো টিপু।আমাদের ইতিহাস বইতে এই ইতিহাস কখনই বলা হয় নি। শুধুই টিপু সলতানকে মহান শাসক হিসাবে তুলে ধরার চেস্টা করা হয়েছে। আজ আমি আপনাদের কাছে তার কিছু অংশ তুলে ধরব মাত্র।

টিপু সুলতানে জন্মদিন পালন করার বিরোধীতা

ইতিহাসে টিপুকে নিয়ে বার বার প্রকৃত সত্য লুকিয়ে একটা মহান নেতা বানোর চেস্টা করেছে টিপুর পরবর্তী সকল শাকসরা। ২০১৫ সালের এক জন ভিএইচপি কর্মী টিপু সুলতানে জন্মদিন পালন করার বিরোধীতা করলে তাকে হত্যা করা হয়্। যেটা হলুদ পেড মিডিয়ার চোখে কোন অপরাধ ছিলো না। ঐ বছরে মাঝা মাঝি গিরিশ কার্নাডের, যেনি কর্নাটকে একজন নাট্যকার ও মঞ্চাভিনেতা তিনি বলেন “বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া ”আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে মহান শাসক টিপু সুলতানের নামে, নাম করণ করা হোক। যার দরুণ ঐ সময় তার কথার প্রবল বিরোধিতা শুরু হয় সারাদেশে। কিন্তু পেড মিডিয়া এই বিষয়টাকে অসহিষ্ণু বলে প্রচার করে।

মানুষ কিভাবে টিপু সুলতানকে চিনতে শুরু

Picture search by google

“দ্য সোর্ড অব টিপু সুলতান” মনে আছে? হ্যাঁ, ৯০ দশকের একটা মন মাতানো মেগাধারাবাহিক। এই ধারবাহিকে মাধ্যমে সাধারণ মানুষ টিপু সুলতানকে প্রথম চিনতে শুরু করে।”দ্য সোর্ড অব টিপু সুলতান” লেখক ভগওয়ান এস গিদওয়ানি যিনি একজন সেক্যুলার। তিনি তার মনে রং মিসিয়ে একটা আধা-কাল্পনিক উপন্যাস টিপু সুলতানকে নিয়ে লেখেন।তার দরুন এটা যখন প্রকাশ পায় তখন এটা মার্কেটে একটা ভালো মার্কেট পায়। বন্ধুরা মনে পড়ে তসলিমা নাসরিন সেই কথাটা ‘‘সব লেখকই ধান্ধাবাজ’’ সেক্যুলার গিদওয়ানি ঠিকই বুঝতে পেরেছিল যে ভারতে বেশির ভাগ মানুষ সেক্যুলার চর্চা করে। তাই তিনি উপন্যাসটি অনেকটা নিজের মন মতন রং তুলি দিয়ে একটা সেক্যুলা ঐতিহাসিক রুপ দেন। যার ফলে সাধারণ মানুষ তার উপন্যাসটি ভালো ভাবেই খায়। এই জনপ্রিয় দেখে সঞ্জয় খান, ঋত্বিকের সাবেক স্ত্রীর বাবা  এতটাই মুগ্ধ হন যে, তিনি এই উপন্যাসটিকে একটা মেগাধারাবাহিক বানোর সিন্ধান্ত নেন। যার ফলে খান আর গিদওয়ানী মিলে তৈরি করে ফেলেন “দ্য সোর্ড অব টিপু সুলতান”। এই সোর্ড টাতে হিন্দুদের বিরুদ্ধেই ইংরেজদের  থেকেও বেশি ব্যবহার হয়।

“দ্য সোর্ড অব টিপু সুলতান”

এই মেগা ধারাবাহিকে সাথে বাস্তবে টিপুর বেশির ভাগ মিল থাকলে আমার হয়তো এতো কষ্ট করে আজ লিখতে হত না।যে বাস্তবের কথা আমি বলছি সেটা উপন্যাসে সাথে সম্পূর্ণ ছিল ভিন্ন। সেটা ভারতীয় হিন্দুদের জন্য বড়ই বেদনা দায়ক।সেই ধান্দাবাজ লেখক, আপনারা হয় আপত্তি করবেন এই লেখকে ধান্দাবাজ বললে। হ্যাঁ, সেই কথায় আসছি। কেন আমি গিদওয়ানিকে ধান্দাবাজ বলছি তার ভাবটা এবার প্রকাশ করছি। গিদওয়ানি যখন টিপুকে নিয়ে উপন্যাস লিখতে বসেছিল তিনি অবশ্যই অনেক, অনেক গবেষণা করেছিলেন; তাই নয় কি? উপন্যাস থেকে বুঝা যায় তিনি এই ব্যাপারেও ভালেই সচেতন ছিল উপন্যাসে কোন, কোন বিষয় থাকবে আর কোন, কোন বিষয় থাকবে না। গিদওয়ানি ভালই বুঝেছিলেন যে তার এই উপন্যাসের বড় বাজার ভারত তথা ভারতের আশে-পাশের দেশের জনসাধারণ। ভারতের সেকুলা ৮০% হিন্দু আর প্রতিবেশি দেশের ১০০% মানুষে যাতে খায় গিদওয়ানি তেমনি একটা রুপ দিয়েছিলেন।

 

উপন্যাসে গোজামিল

সব মিলে তিনি উপন্যাসটি এমন একটা রুপ দিয়েছেন যাতে হিন্দুরাও না চটে আবার মুসলিমারা যেন ঘোষা না হয়। যাতে করে দু-পক্ষই উপন্যাসটি ভাল ভাবে খায়। ফলে টিপুকে লেখক একজন যুদ্ধা, দেশপ্রেমিক, জনদরদী এবং ইংরেজ বিরোধী নেতা হিসাবে উঠিয়ে এনেছে। যার ফলে মূল কাহিনী থেকে যে বিষয়টা একেবারেই বাদ গিয়েছে। তা হলো টিপুর হিন্দু বিরোধীত তার সাথে হিন্দু নির্যাতনের বিষয় গুলো। ভারত স্বাধীন হবার পরে জনসাধারণকে ইংরেজ বিরোধী লাণ্ডু এমন ভাবে খায়ানো হয়েছে। যে শুধুই ইংরেজরাই ভারতকে শোষন করেছে বাকি ৮০০ বছর ভারতের জনগন খুব শান্তিতে ছিলো। যার ফলে কি হয়েছে, টিপু যে ইংরেজদের সাথে বুক ফুলিয়ে যুদ্ধ করে মারা গেছে জনসাধারণ   এই বিষয় ভালভাবেই গিলেছে। সেই সাথে ৮০০ বছরে পরাধীনতার নাম গন্ধ ভূলিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে। পাশা-পাশি একটা মোটা সংখ্যা মানুষকে তার মূল চেতনা থেকে যেহেতু আলাদা করা সম্ভব হয়েছে। সেহেতু এই পরাধীনতার ১০০০ বছরে সেই মানুষ গুলোকে আজ তাদের আপন শিকড়ের বিরুদ্ধে দাড় করাণ সম্ভব হয়েছে।

পূর্ণাইয়া পণ্ডিত

আমি আপনাদের আস্তে, আস্তে নিচেই টিপু হিন্দু বিরোধীতা তুলে ধরব। আমারা যদি মূল কাহিনী দিকে তাকায় দেখব যে কাহিনীতে একজন হিন্দু পণ্ডিত যার নাম পূর্ণাইয়া পণ্ডিত। সমাজে একটা ধারণা আছে যে হিন্দু পণ্ডিরা জ্ঞানি হয় এবং পূবে রাজার তাদের কাছ থেকে শলাপরামর্শ নিতেন। জনসাধারণে সেই দুর্বল ধারণা কে পুঁজি করে লেখক এই পুরো কাহিনীতে পূর্ণাইয়া পণ্ডিকে টিপুর শলাপরামর্শ দাতা হিসাবে দেখিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে টিপুর সেই হিন্দু বিরোধীতা যদি দেখানো হত তবে এই পণ্ডিতের কোন ভেলু থাকত না। যেহেতু কাহিনীতে হিন্দু বিরোধীতা দেখানো যায়নি তাই যতটা সম্ভব ইংরেজদের বিরোধীতা দেখানোর চেস্টা হয়েছে। আর এটাই হলো এই ধান্ধাবাজির মূল কাহিনী।

নেট দুনিয়া টিপু

আমরা যদি নেট দুনিয়া দেখি, তবে দেখা যায়- উইকিসহ বেশির ভাগ স্থানে একই কাহিনী ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে দেখানো হয়েছে। সে গুলো কি? কত সালে জন্ম, পিতা কে, রাজ্য কোথায় ছিলো,বীরত্বগাতা বীর, বাঘ, গ্রামের নাম, দুর্গ, ভারতের কর্নাটক, মীর সাদিক বিশ্বাসঘাতকতা, যুদ্ধে ১৭৯৯ সালের ৪ মে তিনি নিহত, পরিবারকে দূর্গে বন্দী, প্রিয় পশু, প্রিয় উক্তি, ব্যস এতটুকুই। কিন্তু টিভির কাহিনীর সাথে বাস্তব কাহিনী সম্পূর্ণ ভিন্ন। আগেই বলেছি হায়দার আলী কি ছিলো আর কিভাবে সেনাপতি থেকে রাজা হলেন। “তোমরা কাফেরদের আনুগত্য করো না” এই লাইনটা কি কখনো শুনেছেন বা পড়েছেন? হ্যাঁ, হায়দার আলী কেবল সেটাই করেছেন।

হায়দার আলীর অনৈতিকভাবে ক্ষমতা দখলে

কোন ভেগ ধারি সেকু-মাকু হায়দার আলীর এই অনৈতিকভাবে ক্ষমতা দখলে কথা বলে না। কারণ দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। যে দরবেশের দোয়ায় টিপু জন্ম সেই দরবেশ হায়দারকে বলেছিল। তোমার প্রথম ছেলেকে আল্লাহর রাহে কোরবানী করবে? তার উত্তরে হায়দার বলেছিল- হ্যাঁ, আমি তাকে আল্লাহর রাহে উৎসর্গ করবো। তখন দরবেশ বলেছিল তুমি তা হলে ফিরে যাওয় তোমার ছেলে আল্লাহর খিদমতগার ও ঈমানী ঝাণ্ডা বহন করে সে এগিয়ে যাবে। যার ফলে কি হয় টিপুকে ছোট বেলা থেকে এমন ভাবে মানুষ করা হয়। সে কেবলি আল্লাহর হুকুম মানবে আর কোন ব্যাক্তির না। এবার আপনাদের কাছে প্রকাশ করার সময় এসেছে টিপু কিভাবে খোদার হুকুম পালন করে। বন্ধুরা আপনারা হয় তো জানেন, আলেকজান্দ্রিয়ারবিখ্যাত গ্রন্থাগার মিশর দখল করে আলী পুড়িয়ে ধ্বংস করে দিয়েছিল। পরে সকল মিশরীরা ইসলাম গ্রহন করার ফলে, যে মিশরা ইতিহাসের জ্ঞানে আধার ছিলো,পরে হলো ভিখারী। আজ ‍যদি আমরা সেই মিশরে দিকে তাকাই তবে দেখি তারা এখনো সেই জ্ঞনের দৈন্য থেকে বের হতে পারিনি। ভূরে গেলে চলবে না এই মিশরীযেদের ৫ হাজার বছর আগে মমি তৈরির মতন জ্ঞান ছিলো, যা আজ শুধুই ইতিহাস। যখন পতাকা পাল্ট নতুন পতাকা ধরল মিশরীরা তার পর থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞান-দর্শনের তার এটাও আর বাতি জ্বালাতে পারেনি।

আরবরাদের দিক জয়

Picture search by google

আমরা ইতিহাসে থেকে দেখতে পাই। আরবরা যে জাতীকে জয় করেছে প্রথমে ঐ জাতীকে পূর্বের ইতিহাসকে ভূলিয়ে দিয়া আর সাথে, সাথে আরোব থিক চাপিয়ে দিয়েছে। যাতে করে তাদের পরবর্তী প্রজন্ম তার পূর্বসূরী ঘৃনা করতে শুরু করে। ঠিক নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস পিছনে বখতিয়ার খিলজির একটাই করণ ছিলো। যারা মনে মূল্য বোঝে না, তারা কি ভাবে বোঝবে জ্ঞানের মূল্য। তাদের কাছে জ্ঞান মানে একক কেন্দ্রকতা। এর বাইরে আর কিছু না। সব জ্ঞান ওখানেই আছে। যার ফলে তারা মানুষকে নতুন জ্ঞানের সন্ধানে সব সময় বাধা সৃষ্টি করে। এই ধ্বংসলীলা মানুষিকতার কারণে আরোবরা বর্তমান মানব সভ্যতাই কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না। কেবল তাদেরকেই দেখা যায় ইতিহাসে যারা গ্রন্থ পুড়িয়ে সভ্যতার অগ্রগতিরকে পিছনের দিকে ঠেলে দেয়েছে। আমরা ভারতীয়রা জ্ঞানের জন্য, জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর পূজা বা প্রার্থনা করি।আর পশ্চিমেরা জ্ঞানে জন্য এমন প্রার্থনা না করলেও তার জ্ঞানের প্রতি খুবই শ্রদ্ধাশীল।

 

কেন শ্রদ্ধাশীল বললাম জানেন, কারণ তারা পৃথিবীল বহুদেশ জয় করেও কোন দিন কোন গ্রন্থগার জ্বালিয়ে দেওয়নি। বড় প্রমাণ হলো যে ইংরেজরা ২০০ বছর শাসন করে যে বই তার পেয়েছে তা সংক্ষরণ করেছে। তাই আমাদের অনেক গুরুত্বপূণ বই আমরা পশ্চিমাদের কাছে আজও দেখেতে পায়। এক সাথে ঐ সকাল বই থেকে তারা যেমন জ্ঞান আহরণ করেছে। তেমন তা ইতিহাসের উপদান হিসাবে রক্ষা করেছে। টিপুর রাজ্যত্ব শেষে হলে ইংরেজরা মহীশূর থেকে অনেক চিঠি,পুস্তক ব্রিটেনে নিয়ে গেছে।তার বেশির ভাগ এখন সংরিক্ষত লণ্ডনের ইন্ডিয়া অফিস লাইব্রেরীতে। আর সেই চিঠির মধ্যে থেকে কিছু চিটি কে.এম পানিকর আবিষ্কার করে যাতে টিপুর হিন্দু হত্যার ভংষ্কর ইতিহাস দেখতে পাওয়া যায়।

চিঠি থেকে-

  • ১৭৮৮ সালের ২২ মার্চ টিপু তার সেনাপতি আব্দুল কাদেরকে চিঠিতে লেখে, “১২ হাজার এর বেশি হিন্দুকে মুসলমান করা হয়েছে। তার মধ্যে অনেক নাম্বুদ্রী ব্রাহ্মণ আছে। এই সাফল্যের খবর হিন্দুদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করা দরকার। স্থানীয় হিন্দুদের মুসলমান করার জন্য তোমার কাছে ধরে নিয়ে এসো। একজন নাম্বুদ্রীও যেন বাদ না যায়।”
Picture search by google
  • ১৭৮৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর তার এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে টিপু লেখে, “আমি দুজন বিশ্বস্ত লোককে হুসেন আলীর সাথে পাঠাচ্ছি। এদের সাহায্যে সমস্ত হিন্দুদের ধরবে আর হত্যা করবে। যাদের বয়স ২০ বছরের কম তাদের জেলে ঢোকাবে এবং এই সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি হলে বাকিদের গাছের সাথে ঝুলিয়ে দেবে। এটা আমার আদেশ।”

 

 

  • ১৭৯০ সালের ১৯ জানুয়ারি, কর্মকর্তা বদ্রুস সামান খাঁকে টিপু লেখে, “তুমি কি জানো না যে, সম্প্রতি মালাবারে আমি বিশাল সাফল্য অর্জন করেছি এবং ৪ লক্ষেরও বেশি হিন্দুকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করেছি। আমি খুব শীঘ্রই অভিশপ্ত রমন নায়ারের বিরুদ্ধে অগ্রসর হচ্ছি। এই সব প্রজাদের ইসলামে ধর্মান্তরিত করাটা জরুরী। তাই আমি বর্তমানে শ্রীরঙ্গপত্তনমে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা আনন্দের সাথে স্থগিত রেখেছি।”

আরো কিছু মন্তব্য দেখা যাক…..

  • স্যার হায়াবাদানা রাও তাঁর “হিস্ট্রি অব মহীশূর”- এ লিখেছেন, “১৭৯০ সালের দীপাবলী অর্থাৎ কালীপূজোর সময় এক রাতে টিপু ৭০০ জন হিন্দুকে হত্যা করে।”
  • টিপু সুলতানের জীবনী লেখক, এম.এফ.কে.এফ.জি এর মতে, “ত্রিবাঙ্কুরের যুদ্ধে টিপু ১০ হাজার হিন্দু ও খ্রিষ্টানকে হত্যা করে। যুদ্ধের পর ৭ হাজার হিন্দুকে বন্দী করে এবং সেরিনাগাপত্তমে নিয়ে গিয়ে পুরুষদের খতনা করিয়ে এবং নারীদের ধর্ষণ ও পরে সবাইকে গরুর মাংস খাইয়ে মুসলমান বানায়।”
  • টিপুর সমসাময়িক লেখক, কিরমানি তার “নিশান-ই-হায়দারী” গ্রন্থে লিখেছেন, “টিপু সুলতান তাঁর জীবদ্দশায় কমপক্ষে ৭০ হাজার বিধর্মীকে ইসলাম ধর্ম গ্রহনে বাধ্য করায়।”

ইংরেজদের আগম ভারতে হিন্দুদের আশীর্বাদ

Picture search by google

দেশের ইতিহাস বইতে ইংরেজরা ভারতের শত্রু বলেই বার,বার বলা হয়েছে। কিন্তু আপনি কি জানেন? ইংরেজরা ভারত দখলে পর ভারতের হিন্দুরা একটু একটু করে মুক্তির সাধ পেতে শুরু করে। ইংরেজদের এই প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৭৫৭ সালে, লম্পট সিরাজদ্দৌলাকে হত্যার মধ্য দিয়ে আর শেষ হয় ১৭৯৯ এ টিপুকে হত্যা মাধ্যমে। ঐ সময় ভারত শাসন করার একটা চাপা স্বপ্ন দেখত ফ্রান্স ও পর্তুগিজরা। এটা টিপু বুঝতে পেরে ফ্রান্স ও পর্তুগিজ সাথে সম্পর্ক করে ইংরেজদের শায়েস্তা করতে চেয়েছিল। কিন্তু ফ্রান্স ও পর্তুগিজরা ইংরেজদের শক্তির কথা বুঝতে পেরে সামনে আর পা বাড়ানি। যার দরুণ টিপুর সব পরিকল্পনা বানের জলে ভেসে যায়। এদিকে হিন্দুরা মুসলিম দু:শাসন থেকে মুক্তি পেয়ে তাদের ভাঙ্গা মন্দির গুলো পূনারাই মেরামত করতে শুর করে। যার ফলে হিন্দুরা ইংরেজদের অনেকটা সমর্থক হয়ে ওঠে।

২০০ বছরে ইংরেজ শাসনে হিন্দু কখনোই ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর আঘাত হতে দেখেনি। যার কারণে হিন্দুরা ইংরেজদের প্রতি অনেকটাই খুশিই ছিলো। তবে এই খুশি টিপু ভালো ভাবে নেই নি। তাই তিনি হিন্দুদের শায়েস্তা করার জন্য ১৭৯৭ সালের ৫ ফেব্র্রুয়ারি, আফগানিস্তানের শাসক, আহমেদ শাহ আবদালীর সেনাপতি জামান শাহকে এক চিঠিতে লিখে, “আল্লার ইচ্ছা ও রসূলের আদেশ অনুসারে আমাদের উচিত মিলিতভাবে ভারতের এই কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ শুরু করা। প্রত্যেক শুক্রবার আমার রাজ্যের মুসলমানরা জুমার নামাজের পর খুতবা দিচ্ছে, ‘হে আল্লা, আপনি ঐ ঘৃণ্য কাফেরদের মস্তক ছিন্ন করে দিন। তাদের পাপের বোঝা তাদের মাথায় পতিত হোক।’ আমি বিশ্বাস করি সর্বশক্তিমান আল্লা আমাদের প্রার্থনাকে কার্যকর করবেন এবং এই পবিত্র কাজে হাত মিলিয়ে অগ্রসর হলে আমরা নিশ্চয় সফলকাম হবো।”

টিপুর প্রিয় খেলা

চিঠি পড়ে বুঝা যাচ্ছে, একই সাথে কাফের অর্থাৎ হিন্দুদের এবং ইংরেজদের শায়েস্তা কর জন্য টিপু আফগানিস্তানের শাসককে একান্তু অনুরোধ করছে। দেশ প্রেমিক শাসক যদি হতো টিপু তবে কি আফগানিস্তানকে বলতে পারত ভারতকে আক্রমন করো? তার মধ্যে কাল্পনিক দেশ প্রেম ছিলো, বাস্তবিক নয়। তার কাছে একটাই প্রেম আর সেটা আরোব্য সাম্রাজ্যবাদ। আপনারা হতো শুনে থাকবেন টিপুর প্রিয় খেলা কি ছিলো। ও জানে না?

আসুন দেখি খেলা টা কি ছিলো। খেলাট সম্পর্কে জানতে হলে আপনাকে সেই ব্রিটেনের ইন্ডিয়া অফিস লাইব্রেরি থেকে প্রাপ্ত টিপুর নিজ হাতে লেখা তার আত্মজীবনী “সুলতান-ই-তাওয়ারিখ” ও “তারিখ-ই-খুদাদাদি” বই দুটা পড়তে হবে। না, না টেনশন করার কিছু নাই আমি আপনাদের সাহায্য করছি । কি আছে সেই বইতে লেখা। টিপু নিজেই উল্লেখ করেছে- যে সকাল হিন্দুরা মুসলিম হতে চাইতো না, তাদের কে ধরে এনে অবসর সময়ে চার হাত পায়ে দড়ি বেঁধে হাতির পায়ে সাথে বেঁধে আর হাতিগুলোকে চারদিকে ছুটতে দিয়ে দেহেকে ছিন্ন ভিন্ন করত। আর এর থেকেই টিপু তার অবসরে বিনোদন নিয়ে থাকত। কি বুঝা গেল এবার তার প্রিয় খেলা কি ছিলো?

মহিকুল হাসানও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে, “ওই দুটি গ্রন্থে (সুলতান-ই-তাওয়ারিখ ও তারিখ-ই-খুদাদাদি) প্রাপ্ত তথ্য থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে, ধর্মের ব্যাপারে টিপু ছিলো একটি বদ্ধ উন্মাদ। দক্ষিণ ভারতের এক রাজা, নাম চিরাক্কাল, মন্দির না ভাঙ্গার জন্য অনুরোধ করেছিল তার বিনিময়ে সে টিপুকে ৪ লক্ষ টাকা দিতে চেয়েছিল। জবাবে টিপু লিখেছিলো, পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ যদি কেউ আমার পায়ের কাছে এনে দেয়, তবুও আমাকে কেউ মন্দির ভাঙা থেকে নিরস্ত করতে পারবে না।” কর্নাটকের ও কেরালা বেশি ভাগে মুসলিম টিপু দ্বারায় জোর পূর্বক ধর্মান্তরিত। এই মানুষ গুলোকে ভূলিয়ে ফেলা সম্ভাব হয়েছে যে তাদের পূর্ব পুরুষদেরকে জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। যারা টিপুকে সেক্যুলা প্রমাণ করা জন্য আদা-জল খেয়ে লেগেছেন। তাদের কে বলব আপনার আগে এ রেফারেন্স গুলো দেখে আসুন।

মনে অনেক প্রশ্ন

Picture search by google

উপরের আলোচনা পড়ে পাঠক আপনাদের মনে অনেক প্রশ্নই এসে গেছে আশা করি। এর মধ্যে একটা বড় প্রশ্ন হলো উপরে যেসব ঠিটি, টিপুর আত্মজীবনীর এবং বিভিন্ন ইতিহাসবিদের, কথা বলা হয়েছে তা আদেও কি সত্য; তাই তো? হ্যাঁ, পাঠক আপনারা কিন্তু ঐ গিদওয়ানি লেখা উপন্যাস থেকে তৈরি কাহিনী দেখে এমন প্রশ্ন করেনি? কিন্তু এখন করছেন, কারণ আপনাদের টিপু সম্পর্কে শুন্য জ্ঞানের জাগায় ইতি মধ্যে গিদওয়ানি কাহিনী ডুকিয়ে দিয়া হয়েছে। কথাই আছে প্রশ্ন বা সন্দ জ্ঞানের জননী । তাই আমি ধরেই নিচ্ছি যে আপনের মনেই আজ যে প্রশ্ন বা সন্দ তৈরি হয়েছে তা থেকে আর বেশি জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন।

জানি, লন্ডনে গিয়ে আপনার মতন বেশির ভাগ সাধারণ মানুষের ঐ সকল চিঠি বা বই পুস্তক থেকে সত্য জানা সম্ভব না। তাই সম্ভবত আপনার মনের প্রশ্ন গুলো স্বাভাবিক?এবার যদি আমি বলি আপনাদের মতনি ঐ সকাল লেখকদের রং মাখানো কাহিনী আমাদের মতন চিন্তাশীল মানুষের পক্ষে মানা সম্ভব না।কি ভূল হবে পাঠক? আশা করি বুঝতে পেরেছেন আমি কি বলতে চেয়েছি।

এরার আমি আপনাদের একটা প্রশ্ন করি। যার ঐ সকাল লেখকদের প্রতি বিশ্বাসী তাদের লিখার প্রতি বিশ্বাস করাটা কি আপনাদের ঠিক হচ্ছে? কারণ আপনি নিজেই জানেন আপনার সকল আস্থা মাত্র একটি গ্রন্থর উপর। আপনাদের অন্য কোন গ্রন্থের উপর আস্থা না রাখাটাই স্বাভাবিক নয় কি? ও গিদওযানি কাহিনী আপনার পক্ষে তাই আস্থা রাখা যাবে, তাই না? আমি গায়েলে গান, আর আপনি গায়েলে গগ, তাই না? আমার টা হারাম, আপনারটা আ….বা, বা দারুন।

আসুন আপনাদের চিন্তা গুলোকে আমি আর বড় করতে চাই না। সি.এইচ রাও লিখিত “হিস্টোরি অব মাইসোর” গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ডটি পড়তে হবে আপনাদের। কিছু করার নেই দাদা, কারণ আপনাদের মনে প্রশ্ন যেহেতু এসেছে। হ্যাঁ “হিস্টোরি অব মাইসোর” পড়লে আপনারা জানতে পারবেন। একটি শিলালিপি কথা, এটি টিপুর লেখা একটি ফার্সি ভাষার শিলালিপি। যার নাম “সোর্ড অব টিপু সুলতান” আর এই স্থান থেকেই সেক্যুলার গিদওয়ানি নামটাকে কপি করে সামনে “দ্যা” বসিয়ে “দ্য সোর্ড অব টিপু সুলতান” নামে উপন্যাস চালিয়ে দিয়েছে। এই শিলালিপি ছাড়াও আর কয়টি শিলালিপি পাওয়া গিয়েছে। এখন প্রশ্ন শিলালিপি কথা আছে? আগেই বলেছি জানতে হলে “হিস্টোরি অব মাইসোর” গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ডটি পড়তে হবে। যাদের আমার কথাই বিশ্বাস না হবে তাদের তো এটুকু কষ্ট করতে হবেই।শুধু কষ্ট করেই তো একটু পড়বেন, কি বলেন?

শিলালিপিতে কি লেখা আছে?

সরাসরি শিলালিপি থেকে “আমার জয় গৌরবের তরোয়াল এই দেশের কাফেরদের (হিন্দুদের) ধ্বংস করার জন্য বিদ্যুতের মতো ঝলকাচ্ছে। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের প্রভু, কাফেরদের নির্মূল করতে আপনি আমাদের সাহায্য করুন। হে আল্লাহ, আমরা যারা মুহম্মদের সত্য ধর্মকে প্রসারিত করতে চাই, তাদের আপনি জয়যুক্ত করুন। আর যারা মুহম্মদের সত্য ধর্মের বিরোধিতা করে তাদেরকে পরাজিত ও বিহ্বল করুন। তাদের বিরুদ্ধে বিশাল বিজয় হাসিল করতে, হে আল্লাহ, আপনি আমাদের সাহায্য করুন।”খেয়াল করুন, শিলালিপির প্রথম বাক্যেই লেখা, “আমার জয় গৌরবের তরোয়াল এই দেশের কাফেরদের (হিন্দুদের) ধ্বংস করার জন্য বিদ্যুতের মতো ঝলকাচ্ছে।”

শিলালিপির লিখা বিশ্নেষণ

Picture search by google

শিলালিপি তে “এই দেশের” দ্বারয় টিপু ভারতকে বুঝিয়েছে। পাঠক এখানেই টিপুর মানুষিকতা পরিষ্কার হয়ে গেছে। যদি তিনি ভারত কে নিজের দেশ মানতেন তবে অবশ্যই “আমার দেশের” বলত। পরিষ্কার লিখা তার তরোয়ল কাফের অর্থাৎ হিন্দুদেরকে ধ্বংস করার জন্যই। এই শিলার লিখা থেকে আরো যে বিষয় গুলো পরিষ্কার হয়। তা হলো মুসলমানরা যে ভারতে বহিরাগত আরোব ঝাণ্ডা ধারি, তাদের লক্ষ্য একমত্র ভারতের হিন্দুদের মুসলিম বানানো বা খতম করা। আর এই সত্যতা বুঝার জন্য বেশি কষ্ট করতে হবে না। শুধু বাংলাদেশ আর পাকিস্থানে দিকে তাকান, তাতেই তাদের মানসিকতা দেখে বুঝতে পারবে। প্রেসিডেন্ট কালাম বা সম্রাট আকবর এদের কে তো চেনেন? দেখবেন মুসলিম সমাজে এদের কোন দাম বা কদর নাই।

কদর না থাকার কারণ বুঝার জন্য বেশি কষ্ট করতে হবে না। কারণ এনারা ছিলো অপেক্ষত উদার মুসলিম। যারা হিন্দু বিরোধীতা যথেষ্ট করেনি। আকবর তো নিজেই “দ্বীন-ই-এলাহী” নামে একটি ধর্ম চালু করেছিল। আপনারা যদি লক্ষ্য করেন দেখবেন, বাংলাদেশ এবং পাকিস্থানে টিপুর কদর ব্যপক, কারণটা আর কিছুই না শুধু তাদের হিন্দু বিরোধীতা। তাই “টিপু” শব্দটা আরবী না হওয়া শতেও বংশ পদবী যেটাই হোক, অন্তত লক্ষ্য মানুষের নাম টিপু পাওয়া যাবে। আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নাম তো ভুরিভুরি। উদাহরণ হিসাবে বেশ কয়েকটি বেসরকারী জাহাজ কথা বলা যেতে পারে। তা টিপুর স্মৃতি স্মরণ করে রাখা হয়েছে। পি.এন.এস টিপু সুলতান নামে পাকিস্থান সরকারের একটি যুদ্ধ জাহাজ এবং অস্ত্রও আছে। অতচ এই টিপু নাম বা টিপু সুলতানে সাথে বাংলাদেশ এবং পাকিস্থানে উল্লেখযোগ্য তেমন কোন সম্পর্ক নাই।

 

আশা করি বুদ্ধিমানদের জন্য ইশারায় ই যথেষ্ট। টিপুর চার স্ত্রীর সহ হেরেমে হিন্দু মেয়ে তো ছিলোই। সেই সাথে আরোব্য কালচার বহুন করে ১৫ পুত্র এবং ৮ মেয়ে সন্তান জন্ম দেন। টিপুর ১৪ নম্বার সন্তান টিপুর নামে কলকাতাই বিখ্যাত “টিপু সুলতান শাহী মসজিদ” স্থাপন করে। যদিও টিপু যে এলেকা জয় করেছে সেই এলেকার হিন্দুদের গনিমতে মাল বানিয়েছিল। তবু ইংরেজরা টিপুর পরজয়ের পরে তার পরিবারকে তেমন কিছু না করে সম্মানে সাথে ভেলোরের একটি দুর্গে বন্দী করে রাখে। দেশপ্রেমিক এবং প্রজা দরদী টিপুকে শুধুই ইতিহাস বইয়ে পাওয়া যায়। বাস্তাবে তিনি কি ছিলেন তা মনে হয় আর বলার দরকার নাই। যুক্তিছাড়াই অন্ধের বিশ্বাস যাদের একান্ত অনুচেতনা তাদের কাছে টিপুর হিন্দুদের হত্যা,ধর্ষন,অপহরন,ও জোর পূর্বক ধর্মান্তরিত ইত্যাদি আশা করি অলিক গল্পে ছাড়া আর কিছু মনে হবে না। ধন্যবাদ-

লেখাটি পড়ার পর অবশ্যই লাইক করতে ভূলবেন না।

সূত্র:-

https://www.outlookindia.com/magazine/story/the-tyrant-diaries/284803

https://kolkata24x7.com/violation-spread-in-karnataka-on-tipu-jayanti-issue.html

https://bn.wikipedia.org/wiki/টিপু_সুলতান

https://www.youtube.com/watch?v=PdZVWUqPR5k

https://bn.wikipedia.org/wiki/টিপু_সুলতান_মসজিদ

www.somewhereinblog.net/blog/massud1/30029612

www.somewhereinblog.net/blog/bengavai/29659066

https://roar.media/bangla/main/history/tipu-sultan-new-perspective/

https://www.anandabazar.com/topic/টিপু-সুলতান

Rule of Tipu Sultan

India history

The Sword of Tippu Sultan

পাতা:জীবনীকোষ-ভারতীয় ঐতিহাসিক-তৃতীয় খণ্ড.pdf/২৮৬ –

টিপু সুলতানের জীবনী-www.Tipusultan.org

হিস্টোরি অব মাইসোর

খন্দকার জাহিদ মুরাদ (সেপ্টেম্বর ১৯৯২)। “ইতিহাস:বাঘ ও টিপু সুলতান”। নতুন ঢাকা ডাইজেস্ট (প্রিন্ট)। ঢাকা। পৃষ্ঠা ৪৫-৪৭।

ধর্ম অবমাননার দায়ে দায়ী, আসিয়া বিবি পাকিস্থানে এক হতভাগীর নাম………………।

ঐতিহাসিক পানাম নগর কি জন্য প্রসিদ্ধ ?