ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন বাঁশির সুর আজও শোনা যায় বৃন্দাবনের এই মন্দিরে।

ভারতবর্ষ সহ বিশ্বের যে সমস্ত স্থানে হিন্দু মন্দির রয়েছে তার মধ্যে বিন্দাবন অবশ্যই অন্যতম। বৃন্দাবনের সাথে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বৃন্দাবনের পর্যটকদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান যেটি তাহলো নিধিবন মন্দির। হাজারো রহস্য ঘেরা এই মন্দিরটিতে লুকিয়ে আছেন অজানা বহু রহস্য। যার কারনে ভক্তদের এই মন্দিরটি ঘিরে উৎসাহের কমতি থাকে না। নিধুবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই।

 

 

চোখ ধাঁধিয়ে যাবে আশপাশের প্রকৃতির রূপ লীলা দর্শন করে। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি। যা সত্যিকার অর্থে এক অকল্পনীয় অভাবনীয় সৌন্দর্যের প্রতীক। উপরের এই সমস্ত কারণে নিধুবনের মন্দিরটি সবসময় ভক্তদের কৌতূহলপূর্ণ আকর্ষণ পূর্ণ এক পবিত্র ভূমি বলে মনে হয়। মন্দিরটির অধিকাংশ অংশ জঙ্গলে ঘেরা এই মন্দিরে বাঁকে বিহারীর পবিত্র বিগ্রহ রয়েছে। নিধি অর্থ সম্পদ এবং চারপাশ জঙ্গলে ঘেরা বন। এই মন্দির সম্পত্তি যেহেতু জঙ্গলে ঘেরা বন, তাই এই মন্দিরটির নাম হয়েছে নিধিবন।

 

 

তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো এই জঙ্গলের সব কয়টি গাছের শাখা নিম্নমূখী। এখানকার মানুষের ধারণা এই গাছের শাখাগুলো ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মাথানত করে আছে। যা সৃষ্টি স্রষ্টার প্রতি সমর্পণ এর প্রতীক। আশ্চর্যজনক বিষয় হল এই মন্দিরটি যে অঞ্চলে অবস্থিত সেই অঞ্চলের মাটি অনেকটা রুক্ষ। কিন্তু ওই অঞ্চলের গাছগাছালি গুলো সারাবছরই সবুজ পাতাতে ভরে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা ও মন্দিরের কর্মচারিদের বিশ্বাস এই সব গাছ আসলে বাঁকে বিহারীর লীলাখেলার সঙ্গী গোপীনির দল। সবচাইতে গা শিরশির করে উঠার মতো বিষয় হলো সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে বদলে যায় এই এলাকার দৃশ্যপট।

 

এই কারণেই বিকালের পর এই মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। স্বয়ং বাঁকে বিহারী নাকি আজও এখানে রাইকিশোরী ও অন্য গোপীনিদের সঙ্গে লীলাখেলা করেন। মন্দিরের চারপাশ ঘিরে রাখা এই গাছগুলোই গোপীনিতে পরিবর্তিত হয়ে রাসলীলায় অংশ নেন। মন্দির চত্বরে ঘুরতে ঘুরতেই একটি ছোট কুয়ো নজরে পড়বে আপনার। মনে করা হয়, রাসলীলার সময় একদিন রাধা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লে, তাঁর তৃষ্ণা মেটাতে খোদ শ্রীকৃষ্ণ এই কুয়োটি তাঁর বাঁশি দিয়ে খনন করেন।বিকাল শেষের সন্ধ্যা নামা মাত্রই সকল দরজা এবং জানালা বন্ধ করে ভক্ত এবং পুণ্যার্থীদের ওই স্থান ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়।

 

পরের দিন সকাল পর্যন্ত ওই স্থানে কোন ধরনের মানুষোর প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। এক কথায় এই মহারাসলীলা কাউকে চাক্ষুস করতে দেওয়া হয় না।তবে অনেক সময় দেখা গেছে অনেক ব্যক্তি কৌতূহলবশত হয়ে ওই মন্দিরের ভিতরে লুকিয়ে থেকে গেছে। তবে দুঃখের হলেও সত্য যে ওই মন্দিরে যারা থেকে গেছে তারা হয় পরবর্তী দিন সকালে মৃত নয় পাগল হয়ে গিয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি সন্ধের পর বন্ধ মন্দির থেকে ভেসে আসা ঘুঙুরের শব্দ অনেকেই শুনেছেন। রাধা-কৃষ্ণকে সন্তুষ্ট করতে সন্ধ্যারতির পর পুরোহিতরা এখানে শাড়ি, মিষ্টি, চুড়ি, পান এই সব রেখে যান।

 

 

সকালে সেই সবকিছু ছড়ানো-ছিটোনো অবস্থায় পাওয়া যায়। মিষ্টি, পান কেউ খেয়েছে বলেও বোঝা যায়। এই অলৌকিক ঘটনা গুলো যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই মন্দিরেই বাস করেন। বৃন্দাবনের মানুষের ভক্তি ও প্রেম কৃষ্ণভগবানকে এই মন্দিরে ফিরিয়ে আনে বলে মনে করেন তাঁরা। বহুবার অনেক ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক এই মন্দিরের রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করেছেন। তবে কিছু একটা অস্বাভাবিক এখানে রয়েছে বলে মেনে নিয়েছেন তাঁরাও । লেখাটি পড়ার পর অবশ্যই লাইক করতে ভূলবেন না।

 

Source: Time Now Bangla