ঈশ্বর তার পৃথিবী ফেরত চেয়েছে! প্রস্তুত তো আপনি?

ঈশ্বর তার পৃথিবী ফেরত চেয়েছে! প্রস্তুত তো আপনি? বিশ্বব্যাপী এই মারণ ভাইরাস করোনা আমাদেরকে একটা ছাতার নিচে এনে দাঁড় করিয়েছে। ভুলিয়ে দিয়েছে কাঁটাতার সীমানা, ভুলিয়ে দিয়েছে সাদাকালো উঁচু-নিচু, ভুলিয়ে দিয়েছে ধনী-গরিবের পার্থক্য। একটা লেখনীর মাধ্যমে আমি আপনাদের সেই বিষয়টা পরিস্কার করে দিচ্ছি।

 

এক গ্রামে এক চাষি বাস করতেন। সেই সেই চাষীর ঘরে গর্তের মধ্যে বাস করত একটা ইঁদুর। হঠাৎ একদিন ইঁদুর লক্ষ্য করল চাষী বাইরে থেকে থলেতে করে কি একটা জিনিস নিয়ে এসে তার স্ত্রীর সাথে কথা বলছে। প্রথমে ইঁদুরটি ভাবলো হয়তো বা থলেতে কোন খাবার আছে। থলেটি রাখা মাত্রই খাবারের লোভে ইঁদুরটি গুটিগুটি পায়ে চলে আসলো থলের কাছে। থলের কাছে এসে ইঁদুর তো অবাক। কারণ সেটি খাবার ছিল না সেটা ছিল ইঁদুর মারা ফাঁদ।

ফাঁদটি দেখেই ইঁদুর তো খুবই চিন্তিত হয়ে উঠলো। ঘরের কোণে একটা কবুতার থাকতো ইঁদুরটি চাষের ফাঁদের কথা তাকে বলল- শুনেছি বন্ধু চাষি ইদুর মারার জন্য একটা ফাঁদ নিয়ে এসেছে। কথাটা শোনা মাত্রই পায়রাটি হাসতে হাসতে বললো, তুমি কি মনে করেছো আমি কি ইঁদুর মারা ফাঁদে পড়ব? এতে আমি কেন চিন্তিত হব? কথাটা শোনার পরে ইঁদুরটি একবুক হতাশা নিয়ে সেখান থেকে চলে আসলো।

 

তখনই ইঁদুরটি তারা আর এক বন্ধু মুরগির কাছে গিয়ে কথাটা বলল। মুরগি ও কথাটি শুনার পরে কথাটি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে উড়িয়ে দিলো। আর হাসতে হাসতে বলল এটা আমার কোন সমস্যা না। ইঁদুরটি চরম হতাশা নিয়ে সেখান থেকে চলে আসলো।

এবার সে হাঁপাতে হাঁপাতে পুকুর পাড়ে গিয়ে তার আরেক বন্ধু মাছ কে বলল। মাছ কথাটা শোনা মাত্রই আগের বন্ধুদের মতো হাসতে হাসতে উড়িয়ে দিল। মাছ বলল ভাই আমি জলেতে থাকি আমার কিসের এত টেনশন? ওটা তোমার সমস্যা তুমি চিন্তা করো।

 

ইঁদুর আবারো হতাশ হলো মনের দুঃখে কষ্টে সে সামনের দিকে হাটতে লাগল। কিছুদুর যাওয়ার পর তার আরেক বন্ধু ছাগলের সাথে দেখা হল। ছাগল ইঁদুরের মুখ থেকে কথাগুলো শোনার পরে হেসে লুটোপুটি করতে লাগলো আর ঘাস খেতে লাগলো। ইঁদুর চরম হতাশা নিয়ে ঘরে ফিরল ভয়ে ভয়ে।

সেরাতে হঠাৎই একটা শব্দ শুনতে পারলো ইঁদুর। শব্দটি শোনার পর চাষির বৌ তাড়াহুড়ো করে এসে পড়ল। অন্ধকারে চাষীর বউ ইঁদুর ভাবে জাপ্টে ধরলো। আর সঙ্গে সঙ্গে হঠাত চিৎকার করে উঠল। আসলে সেই ফাঁদে পড়ে ছিল একটা বিষধর সাপ। চাষীর বউ হাত দিয়েছিল বিষধর সাপের লেজে। তখনি সাপটি ছোবল মেরেছিল চাষীর বউ এর হাতে।

 

অল্প সময়ের মধ্যে চাষীর বউ এর শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে লাগল। চাষী তড়িঘড়ি করে ওঝাকে ডাকলো। ওঝা সবকিছু দেখার পর চাষিকে বলল- চাষী যেন তার স্ত্রীকে পায়রার জুস করে খাওয়া হয়। আর তারপর পায়রাটি হাঁড়িতে।

চাষীর স্ত্রীর এই সংবাদ শুনে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে আত্মীয়-স্বজনরা এসে হাজির হলো। উপস্থিত সকল আত্মীয়-স্বজনদের খাবারের জন্য মুরগীটিকে কাটা হলো। মুরগি জীবন এখন ইতিহাসে সে এখন হাঁড়ির মধ্যে। এর কয়েক দিনের মধ্যে চাষীর স্ত্রী মারা গেল।

 

চাষীর স্ত্রী মারা যাওয়ার পর শ্রাদ্ধ শান্তির জন্য অনুষ্ঠান করা হলো। সেই অনুষ্ঠানে খাবারের তালিকায় মাছের ব্যবস্থা করা হলো। আর তার জন্য ধরা হলো পুকুর থেকে মাছ। এখন মাছটি হাঁড়ির মধ্যে সে এখন ইতিহাস।কিছুদিন পরে চাষী আবার পুনরায় বিবাহ করার জন্য প্রস্তুত হল। বিবাহ অনুষ্ঠানে খাসির মাংস খাবারের মেনু করা হলো। ঐদিনের পর থেকে ছাগলটির হাঁড়ির মধ্যে, সেও এখন ইতিহাস।

উপরের এই ঘটনার সবকিছুই ইঁদুরের সামনে ঘটেছিল। ইঁদুর ঘটনা গুলো দেখার পর সবকিছু ছেড়ে সে দূরে পালিয়ে গেল। উপরের এই গল্প থেকে একটা জিনিস আমাদের কাছে পরিষ্কার হল। যদি কেউ তার সমস্যার কথা আপনার কাকে বলে আর আপনি যদি মনে করেন সমস্যাটা আপনার না। তবে বলবো হে পথিক একটু দাঁড়াও। মন থেকে একবার একটু ভালো করে চিন্তা করে দেখো। 

 

 

এ সমাজে আমরা কেউ পুরোপুরি বিপদমুক্ত নয় সবাই কম বেশি বিপদে আছি। সমাজের একটা অংশ, একটি ধাপ-পর্যায়, একজন নাগরিক যদি বিপদে থাকেন তবে পুরো দেশ বিপদে আছে। নিজের মধ্যে সীমিত না থেকে সামাজিক হোন..আর মানবধর্মের জন্য একত্রিত হোন। আপনার নিজের প্রসন্নতায় হয়তোবা সমাজকে বড় বিপদ থেকে মুক্তি দিতে পারে। কখনোই সমস্যাকে অন্যের বলে ছেড়ে দিয়ে চলে এসো না। তাতে দিনের শেষে সমস্যাটা নিজের ঘাড়ে এসে পড়তে পারে।

লেখাটি ভালোলাগলে লাইক শেয়ার…..

 লেখক-অভিরূপ বন্দোপাধ্যায়